এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী, যাদের এমএলএসএস (মাল্টি লেভেল সার্ভিস স্টাফ) দপ্তরী বলা হয়, দীর্ঘ ২০-২৫ বছর চাকরি করার পর হঠাৎ করেই তাদেরকে নিম্নমানের পদে বদল করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা হাইকোর্টে রিট করেছেন।

এমএলএসএস দপ্তরীরা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে থাকেন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো উপস্থিত থাকা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ক্লাস টাইম মেইনটেন করা, অফিস ফাইল ও নোটিশ সরবরাহ, এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাজে সার্বিক সহযোগিতা করা।

দপ্তরী থেকে পরিছন্নতা কর্মীতে জোরপূর্বক পদন

মাল্টি লেভেল সার্ভিস স্টাফরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘকাল চাকরি করার পর হঠাৎ তাদেরকে “পরিছন্নতা কর্মী” বা নিরাপত্তা কর্মীর মতো নিম্নপদে স্থাপন করা হয়েছে।
এটি তাদের চাকরির জীবনে মানসম্মানে আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং কমিটি এবং শিক্ষা অফিসারের দ্বারস্থ হওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি এবং আইনের দোহাই দিয়ে জোরপূর্বক পদন কার্যকর করা হচ্ছে।

পদে সমন্বয়ের ফলে সমস্যার সৃষ্টি

৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা জানিয়েছেন, এমএলএসএস দপ্তরীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি প্রাঙ্গণের কার্যক্রম সুসম্পন্ন রাখার মূল দায়িত্বে থাকেন। শিক্ষকরা যখন ক্লাসে যান, তখন তারা ক্লাস টাইম মেইনটেন করে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে এবং নোটিশ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেন।
তাদের দায়িত্বপূর্ণ কাজগুলোকে অবমূল্যায়ন করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মেরও পরিপন্থী।

এখন কী চাচ্ছেন এমএলএসএস কর্মচারীরা?

১. দীর্ঘকাল চাকরি করার পর পদোন্নতি বা পদে পূর্ণবহাল নিশ্চিত করা।
২. জোরপূর্বক নিম্নপদে সমন্বয় বন্ধ করা।
৩. প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে কোনো বৈধ সমাধান না হলে আদালতের মাধ্যমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।

কর্মচারী শ্রেণি ৪র্থ শ্রেণীর এমপিওভুক্ত এমএলএসএস দপ্তরী
পদন পরিবর্তন অফিস সহায়ক / পরিছন্নতা কর্মী / নিরাপত্তা কর্মী
সমস্যার মূল দীর্ঘ ২০-২৫ বছর চাকরি করার পর হঠাৎ করেই নিম্নমানের পদে সমন্বয়
মৌলিক দাবি মূল পদে পূর্ণবহাল, জোরপূর্বক পদন বন্ধ, চাকরির মর্যাদা রক্ষা
পদ্ধতি হাইকোর্টে রিট দায়ের